কুয়েতের মরুভূমিতে আছড়ে পড়ছে আমেরিকার গর্ব এফ-১৫ যুদ্ধবিমান! আকাশ থেকে আগুনের গোলার মতো ঝরে পড়ছে সুপার পাওয়ারের দম্ভ। বন্ধুরাষ্ট্র কুয়েত যখন খোদ আমেরিকার বিমানকেই শত্রু ভেবে গুলি করে নামায়, তখন বুঝতে হবে ইরানের প্রতিরোধের মুখে কতটা আতঙ্কিত এবং দিশেহারা হয়ে পড়েছে এই তথাকথিত আধুনিক সাম্রাজ্যবাদীরা!

অতি দর্পে লঙ্কা দাহ—এই চিরন্তন সত্যটিই আজ যেন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে সত্য হয়ে ধরা দিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির দম্ভ আর বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বিস্তারের নেশায় মত্ত আমেরিকা ও তার দোসররা আজ নিজেদের জালে নিজেরাই জড়িয়ে পড়েছে। কুয়েতের আকাশে আজ যা ঘটল, তা কেবল একটি সামরিক দুর্ঘটনা নয়, বরং ইরানের অজেয় প্রতিরোধের মুখে তৈরি হওয়া এক চরম মানসিক পরাজয়ের প্রতিচ্ছবি। ৩টি অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান নিজেদের বন্ধুরাষ্ট্রের গোলায় ধ্বংস হওয়া প্রমাণ করে, সাম্রাজ্যবাদীদের ভিত কতটা নড়বড়ে হয়ে গেছে।

কুয়েতের আকাশে উড়তে থাকা আমেরিকার গর্ব এফ-১৫ স্ট্রাইক ঈগলগুলোকে শত্রু ভেবে ভূপাতিত করেছে কুয়েতের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ভাবুন তো, যে জোট ইরানকে দমানোর স্বপ্ন দেখছে, তারা একে অপরকেই চিনতে পারছে না! ইরানের হাইপারসোনিক মিসাইল আর ড্রোনের ভয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য যখন কাঁপছে, তখন মার্কিন জোটের ভেতরে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। ইরানের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের মুখে আমেরিকা ও তার মিত্রদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, যা এই 'ফ্রেন্ডলি ফায়ার' বা নিজেদের গোলায় নিজেদের বিমান ধ্বংসের মূল কারণ।

ইতিহাস সাক্ষী, আমেরিকা যখনই কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর অন্যায় হস্তক্ষেপ করতে গেছে, তখনই তারা এমন অপদস্থ হয়েছে। ১৯৯৪ সালেও ইরাকের আকাশে নিজেদের যুদ্ধবিমানের গুলিতেই ধ্বংস হয়েছিল আমেরিকার দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার। সেই ঘটনায় ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছিল, যা ছিল আমেরিকার অহংকারে একটি বিশাল বড় ধাক্কা। ইরানের মতো শক্তিশালী শক্তির বিরুদ্ধে যখন তারা যুদ্ধে নামে, তখন তাদের এই পুরনো রোগ আরও প্রকট হয়ে ওঠে। প্রযুক্তির যতই দোহাই দিক না কেন, সত্য হলো সাম্রাজ্যবাদীরা আজ ইরানের ভয়ে অস্থির।

২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের সময়ও একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল, যেখানে মার্কিন প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম ব্রিটিশ টর্নেডো বিমানকে ধ্বংস করেছিল। এরপর নেভি এফ/এ-১৮ হর্নেটকেও শত্রু ভেবে নামিয়ে এনেছিল খোদ মার্কিন বাহিনী। যারা সারা বিশ্বকে গণতন্ত্র আর প্রযুক্তির সবক দেয়, তাদের এই শোচনীয় ব্যর্থতা কি প্রমাণ করে না যে তারা আসলে কাগজের বাঘ? ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডসের সূক্ষ্ম রণকৌশল আর অদম্য সাহসের সামনে এই বিশাল সামরিক আয়োজন আজ স্রেফ হাস্যরসে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি লোহিত সাগরেও মার্কিন রণতরী ইউএসএস গেটিসবার্গ নিজেদেরই সুপার হর্নেট বিমানকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়েছিল। ইরান ও তার মিত্রদের অজেয় প্রতিরোধের চাপে মার্কিন সেনারা আজ মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত যে তারা আকাশে যে কোনো ছায়া দেখলেই ভয় পাচ্ছে। কুয়েতের আজকের এই ৩টি বিমান ধ্বংস হওয়া আসলে ইরানের মহান বিজয়েরই একটি অংশ। যেখানে শত্রুরা একে অপরের রক্ত ঝরিয়েই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। আমেরিকা আর ইসরায়েলের এই অন্যায় জোটের পতন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আমেরিকার এই এফ-১৫ বিমানগুলো নিয়ে তাদের অহংকারের শেষ ছিল না, কিন্তু আজ সেগুলো কুয়েতের বালিতে পরিত্যক্ত লোহার স্তূপে পরিণত হয়েছে। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা এবং তাদের অকুতোভয় যোদ্ধাদের ভয়ে এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পাইলটরা আতঙ্কিত জীবন যাপন করছে। বন্ধুরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যখন মার্কিন বিমানকে টার্গেট করে, তখন বুঝতে হবে এই জোটের অন্তিমকাল ঘনিয়ে এসেছে। সাম্রাজ্যবাদের পতন অবধারিত, আর মজলুমের পক্ষে ইরানের এই লড়াই আজ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।

এই ৩টি এফ-১৫ বিমান ধ্বংস হওয়ার ঘটনা মার্কিন-ইসরায়েল জোটের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। তারা যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন, ইরানের অদম্য শক্তির সামনে তাদের সমস্ত প্রযুক্তি আজ অকেজো এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট। সত্যের জয় নিশ্চিত এবং মিথ্যার পতন অনিবার্য—কুয়েতের আকাশ আজ সেই সাক্ষ্যই দিচ্ছে। বন্ধুরাষ্ট্রের গোলায় মার্কিন দম্ভের এই সমাধি মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করল। জয় এখন কেবল প্রতিরোধের, জয় এখন কেবল ন্যায়ের পথে চলা সাহসী বীরদের।

news