চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে, কিন্তু অপরাধ ঢাকতে যুদ্ধ শুরু করলে ধ্বংস অনিবার্য! যখন সারা বিশ্বে ইসরাইলি আর মার্কিন রাঘববোয়ালদের শিশু যৌন নির্যাতনের ‘অ্যাপস্টিন কেলেঙ্কারি’ ফাঁস হলো, তখনই তারা বেছে নিলো নিরপরাধ ইরানের রক্ত। কিন্তু তারা জানত না, সিংহের লেজে পা দিলে পরিণাম কী হয়! আজ খামেনির রক্তে ভিজেছে মাটি, আর সেই রক্ত থেকেই জন্ম নিয়েছে ইসরাইল ধ্বংসের চূড়ান্ত মহাপ্রলয়!
কথায় আছে, ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’। আজ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যে বারুদের গন্ধ, তার পেছনে লুকিয়ে আছে এক বীভৎস সত্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল তাদের নিজেদের নোংরা ‘অ্যাপস্টিন পাপ’ আড়াল করতে পবিত্র ভূমি ইরানে বর্বর হামলা চালিয়েছে। তারা ভেবেছিল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করলে ইরান থমকে যাবে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, শহীদের রক্তে বিপ্লবের আগুন কখনো নেভে না বরং শতগুণ বাড়ে।
যুদ্ধবিরতির সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন পদদলিত করে ইরানকে আক্রমণ করেছে ইউএস-ইসরাইল জোট। এই কাপুরুষোচিত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং ‘মজলিসে শুরা’র শীর্ষ কর্মকর্তাদের শাহাদাত বরণ করতে হয়েছে। তবে ইরান কোনো ব্যক্তি-কেন্দ্রিক রাষ্ট্র নয়; তাদের ত্রি-স্তর নেতৃত্বের কারণে প্রশাসন এক মুহূর্তের জন্যও থমকে যায়নি। বরং প্রিয় নেতাকে হারানোর শোক এখন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে, যা শত্রুপক্ষের জন্য যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সময়ে।
ইরানের পাল্টা ড্রোন এবং মিসাইল হামলায় এখন থরথর করে কাঁপছে তেলআবিব। খোদ ইহুদিবাদী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত বাসভবন আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা ২১টি মার্কিন ঘাঁটি এখন ইরানি নিখুঁত নিশানার শিকার। এর মাঝেই ১১টি মুসলিম দেশ ‘মার্কিন দালাল’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যারা নিজেদের ভাইদের পিঠে ছুরি মেরে পশ্চিমাদের পদলেহন করছে। তাদের বিচারও হবে সময়ের ব্যবধানে।
আধুনিক স্থাপত্যের অহংকার দুবাই এখন এক আতঙ্কের নগরী। বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন ‘বার্জ খলিফা’ আজ দাউদাউ করে জ্বলছে আগুনের লেলিহান শিখায়। কাতারসহ সাতটি দেশের বিমানবন্দর এখন লন্ডভন্ড, বাতিল হয়েছে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। ধনীরা তাদের ব্যক্তিগত বিমানে করে পালাবার পথ খুঁজছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য আজ এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে পক্ষ-বিপক্ষ মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে তিন হাজারের বেশি।
এই যুদ্ধকে একটি ‘পারমাণবিক যুদ্ধের’ দিকে ঠেলে দেওয়ার নীল নকশা করছে পশ্চিমারা। অন্যদিকে, নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় ইরান এখন পাশে চাইছে বন্ধু রাষ্ট্র পাকিস্তানকে। একদা বিজ্ঞানী আব্দুল কাদির খান যে পারমাণবিক স্বপ্নের বীজ বুনেছিলেন, আজ তা ইরানের জন্য অনিবার্য হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজাধিরাজ হওয়ার যে স্বপ্ন আমেরিকা দেখছে, তা ধূলিসাৎ করতে ইরান এখন মরণপণ লড়াইয়ে নেমেছে। কোনো সমঝোতা নয়, এখন হবে কেবল চূড়ান্ত ফয়সালা।
মার্কিন প্রতিনিধিরা যুদ্ধের ময়দানে আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে এলেও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা কোনো কারণ ছাড়াই বিশ্বাসঘাতকতা করে আক্রমণ চালায়, তাদের সাথে মধুর আলাপ সম্ভব নয়। ৯ কোটি ইরানি আজ বুক পেতে দিয়েছে শাহাদাতের তামান্নায়। দখলদারদের হঠাতে তারা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। কারণ শান্তিকামী বিশ্ব আজ বুঝতে পেরেছে আসল অপরাধী কারা এবং কেন এই নগ্ন হামলা।
সৌদি আরবের বিশাল তেল শোধনাগার ‘আরামকো’ এখন অগ্নিকাণ্ডে স্থবির হয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও ইরানি বিপ্লবীরা পিছপা হওয়ার পাত্র নয়। মূলত জেফরি অ্যাপস্টিনের সেই নারকীয় ফাইলগুলো থেকে বিশ্ববাসীর নজর সরাতেই এই যুদ্ধ বাধানো হয়েছে। যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে বিজ্ঞানীরা পর্যন্ত শিশুদের রক্ত পান করে বয়স ধরে রাখার মতো জঘন্য পাপে লিপ্ত ছিল। সেই অভিশাপ থেকে তাদের নিস্তার নেই আজ।
অ্যাপস্টিন কেলেঙ্কারির সেই নিরপরাধ কিশোরীদের দীর্ঘশ্বাস আজ আগুনের গোল্লা হয়ে ইসরাইলের ওপর পড়ছে। ভবিষৎদ্রষ্টারা বলছেন, এই অপরাধীরা কখনো পার পাবে না। ইরান আজ কেবল নিজের জন্য লড়ছে না, বরং বিশ্বকে এক পৈশাচিক শক্তির হাত থেকে মুক্ত করতে লড়াই করছে। সত্যের জয় সুনিশ্চিত এবং বাতিলের পতন অনিবার্য। ইরানের এই প্রতিরোধ লড়াই ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বিজয় হবেই হবে, ইনশাআল্লাহ।
