"কথায় আছে, 'বুনো ওল আর বাঘা তেঁতুল'। আমেরিকা আর ইসরায়েল ভেবেছিল ইরানকে ভয় দেখানো সহজ হবে, কিন্তু তারা জানত না ইরানি বাঘ যখন ক্ষেপে যায়, তখন সাম্রাজ্যবাদের তাসের ঘর মুহূর্তেই ধুলোয় মিশে যায়! আজকের ভিডিওতে দেখুন কীভাবে ইরানের অদম্য শক্তির কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে পশ্চিমারা।"

আমাদের বাংলার সেই পুরোনো প্রবাদটি দিয়ে শুরু করি— "অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী"। আমেরিকা ও ইসরায়েল ভেবেছিল তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আর কয়েকটা টমাহক মিসাইল দিয়েই ইরানকে কোণঠাসা করে ফেলবে। কিন্তু গত কয়েক দশকের ইতিহাস বলে, ইরান কোনো সাধারণ দেশ নয়। তারা তাদের নিজেদের শক্তিতে বলীয়ান এবং আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে তারা এখন অন্যতম এক অপরাজেয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

ইরানের আকাশসীমা এখন এমন এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে, যেখানে শত্রুপক্ষের যেকোনো অনুপ্রবেশ মানেই নিশ্চিত মৃত্যু। ভিডিওতে আপনারা দেখেছেন কীভাবে আমেরিকা তাদের দামী ড্রোন এবং মিসাইল নিয়ে ইরানের দিকে ধেয়ে আসছিল। কিন্তু ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাভার-৩৭৩ এবং তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির রাডারগুলো এমনভাবে সাজানো যে, শত্রুর রাডার ফাঁকি দেওয়া তো দূরের কথা, তারা পালানোর পথও খুঁজে পায়নি।

আমেরিকা ও ইসরায়েল দীর্ঘকাল ধরে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড বা আইআরজিসি তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। মার্কিনিরা ভেবেছিল তাদের লুকাশ ড্রোন দিয়ে ইরানের নজরদারি এড়িয়ে যাবে, কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি যে ইরান ইতিমধ্যেই তাদের প্রযুক্তিতে বিশ্বকে টেক্কা দিচ্ছে। প্রতিটি পশ্চিমা মিসাইলের বিপরীতে ইরানের জবাব ছিল অনেক বেশি শক্তিশালী।

ইসরায়েল তাদের এফ-৩৫ এবং এফ-১৫ বিমানের গর্ব করে থাকে, কিন্তু ইরানের পাহাড়ি অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা মিসাইল সাইলো এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রোন বেসগুলো তাদের জন্য এখন দুঃস্বপ্ন। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ যতই চেষ্টা করুক না কেন, ইরানের আসল শক্তি তারা কখনোই পুরোপুরি আঁচ করতে পারেনি। ইরানের প্রতিটি মিসাইল আজ তেল আবিব আর হাইফাকে লক্ষ্য করে প্রস্তুত হয়ে আছে।

পশ্চিমারা অভিযোগ করে ইরান নাকি অশান্তি ছড়াচ্ছে, কিন্তু সত্য হলো ইরান শুধু নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করছে। আমেরিকা যখন হাজার মাইল দূর থেকে এসে মধ্যপ্রাচ্যে নাক গলায়, তখন ইরান তাদের মনে করিয়ে দেয় যে এই অঞ্চলটি তাদের নয়। ইরানের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে যে নজরদারি চালায়, তাতে মার্কিন নৌবাহিনীর বড় বড় জাহাজগুলোও এখন আতঙ্কে কাঁপতে শুরু করে।

ইরানের ওপর বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞা দিয়েও তাদের দমানো যায়নি। বরং তারা এই নিষেধাজ্ঞাকেই আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারা এখন নিজেরাই মিসাইল বানায়, নিজেরাই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে এবং তাদের ড্রোন প্রযুক্তি আজ রাশিয়া থেকে শুরু করে বিশ্বের অনেক দেশ ব্যবহার করছে। আমেরিকার দামী দামী জ্যামার বা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম ইরানের প্রযুক্তির সামনে বারবার ব্যর্থ প্রমাণিত হচ্ছে।

ইসরায়েল প্রায়ই হুমকি দেয় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করার। কিন্তু তারা ভালো করেই জানে, ইরানের মাটিতে একটি মিসাইল পড়লে ইসরায়েলের মানচিত্র বদলে দেওয়ার ক্ষমতা তেহরান রাখে। ইরানের শাহাব-৩ এবং ফাত্তাহ মিসাইলগুলো শব্দের চেয়েও কয়েক গুণ দ্রুতগতিতে লক্ষ্যভেদে সক্ষম। এই প্রচণ্ড শক্তির সামনে দাঁড়িয়ে আমেরিকা এখন আলোচনার টেবিল খুঁজছে, যা তাদের চরম পরাজয়েরই নামান্তর।

ইরান প্রমাণ করে দিয়েছে যে, দেশপ্রেম আর সঠিক নেতৃত্ব থাকলে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চোখে চোখ রেখে কথা বলা যায়। ইসরায়েল ও আমেরিকার অপপ্রচার আজ বিশ্ববাসীর কাছে পরিষ্কার। ইরান কোনো যুদ্ধ চায় না, কিন্তু যুদ্ধ যদি তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে তারা সেটা শেষ করতে জানে। পারস্যের এই বীরদের সামনে নতিস্বীকার করা ছাড়া পশ্চিমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।

শেষে বলতে চাই, ইতিহাস সব সময় বিজয়ীদের কথা বলে। আর আজকের মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের উত্থান জানান দিচ্ছে যে, পশ্চিমা আধিপত্যের সূর্য অস্তমিত হতে চলেছে। যারা ইরানকে দুর্বল ভেবেছিল, তারা এখন নিজেদের ভুল বুঝতে পারছে। ইরানের এই বীরত্বগাথা আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, ন্যায়ের পথে অটল থাকলে বিজয় আসবেই। আমেরিকা-ইসরায়েলের দম্ভ চিরকাল থাকবে না, কিন্তু ইরানের তেজ থাকবে চিরকাল।

news