কল্পনা করুন, মাত্র কয়েক হাজার ডলারের একটি ছোট ড্রোন কোটি কোটি ডলারের মার্কিন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে খেলনা বানিয়ে দিচ্ছে! ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের হুঙ্কার দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই আকাশ পথে নেমে এলো ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোনের তান্ডব। আমেরিকা ও ইসরায়েলের দম্ভ চুরমার করে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এখন নতুন ইতিহাস লিখছে তেহরান। কীভাবে এই সস্তা ড্রোনগুলো বিশ্বশক্তিকে নাস্তানাবুদ করছে? জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।

বাংলায় একটি অতি পরিচিত প্রবাদ আছে, "চুন খেয়ে মুখ পুড়লে দই দেখলেও ভয় লাগে।" বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে দখলদার ইসরায়েল এবং তাদের মদদদাতা আমেরিকার অবস্থা ঠিক তেমনটাই হয়েছে। ইরানের অত্যাধুনিক এবং সাশ্রয়ী ড্রোন প্রযুক্তির সামনে এখন পরাশক্তিগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। নিজেদের প্রযুক্তির অহংকার নিয়ে যারা বড়াই করত, তারা এখন ইরানের সাধারণ এক ড্রোনের ভয়ে কাঁপছে।

গত শনিবার ইসরায়েল ও আমেরিকা যখন ইরানের ওপর যৌথ হামলার দুঃসাহস দেখালো, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় গলায় ঘোষণা করেছিলেন যে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেবেন। কিন্তু বিধাতা হয়তো অন্যকিছু লিখেছিলেন। ট্রাম্প ড্রোন শক্তির কথা ভুলেই গিয়েছিলেন। গত ছয় দিনে ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা মুখে নয়, বরং কাজের মাধ্যমে শত্রুকে উচিত শিক্ষা দিতে পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত আছে।

ইরান এই যুদ্ধে মূলত তাদের বিখ্যাত ‘কামিকাজে’ শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করছে। এটি এমন এক মরণঘাতী অস্ত্র যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সাথে সাথেই বিস্ফোরিত হয়। কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে এই ড্রোনের আঘাতে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে, যা এই যুদ্ধে আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় পরাজয়। শুধু তাই নয়, দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহ থেকে বাহরাইনের মার্কিন নৌঘাঁটি পর্যন্ত সর্বত্রই এখন শাহেদ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ইরান জানে শত্রুর দুর্বল জায়গা কোথায়। তাই তারা সরাসরি আঘাত হেনেছে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে। সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগার রাস তানুরা থেকে শুরু করে কাতারের এলএনজি টার্মিনাল—সবই এখন ইরানি ড্রোনের নিশানায়। এর ফলে পশ্চিমা বিশ্বের তেলের বাজারে ধস নামতে বাধ্য হচ্ছে। ইরান বুঝিয়ে দিচ্ছে, তাদের সাথে শত্রুতা করলে পুরো বিশ্বকে জ্বালানি সংকটের চরম মাশুল দিতে হবে।

এই শাহেদ-১৩৬ ড্রোনগুলোর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এদের নির্মাণ খরচ। যেখানে একটি আধুনিক মিসাইল বানাতে কোটি কোটি ডলার লাগে, সেখানে ইরান মাত্র ২০ থেকে ৫০ হাজার ডলারে এই ড্রোন তৈরি করছে। এগুলো দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় না, বরং জিপিএস দিয়ে পথ ঠিক করে দিলে এটি অনায়াসেই ২,৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শত্রুর বুকে গিয়ে আছড়ে পড়তে পারে।

ইরানি ড্রোনের গঠন শৈলী এমনভাবে তৈরি যে এগুলো খুব নিচু দিয়ে উড়তে পারে। এর ফলে আমেরিকা বা ইসরায়েলের দামি দামি রাডার কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকারী ব্যবস্থা এগুলোকে সহজে খুঁজে পায় না। যখন শত্রুরা বুঝতে পারে হামলা হয়েছে, ততক্ষণে ড্রোনের নাকের ডগায় থাকা ৫০ কেজি বিস্ফোরক তাদের লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করে দেয়। এটি ইরানের এক অনন্য সামরিক বিজয়।

ইরানের কৌশলগত উদ্দেশ্য শুধু হামলা করা নয়, বরং শত্রুকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া। একটি সস্তা শাহেদ ড্রোন ধ্বংস করতে আমেরিকাকে প্রায় ৩ লাখ ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র খরচ করতে হচ্ছে। অর্থাৎ ইরান সামান্য খরচে হামলা করছে, আর আমেরিকা নিজেদের দামি মজুদ শেষ করছে। এটি এক চমৎকার মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, যেখানে ইরান জয়ী হচ্ছে আর আমেরিকা তাদের অর্থ ও অস্ত্র হারাচ্ছে।

আমেরিকা দাবি করছে যে ড্রোন হামলা কমে গেছে, কিন্তু বাস্তবতা একদম ভিন্ন। ইরানের ফারস বার্তা সংস্থা সম্প্রতি একটি গোপন বাঙ্কারের ভিডিও প্রকাশ করেছে যেখানে সারি সারি হাজার হাজার ড্রোনের মজুদ দেখা গেছে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। আমেরিকা বা ইসরায়েল চাইলেও ইরানের এই বিশাল প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক শক্তিকে কোনোভাবেই দমিয়ে রাখতে পারবে না।

শেষে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন ইরানের দখলে। ইসরায়েল ও আমেরিকার তথাকথিত অত্যাধুনিক অস্ত্র আজ অকেজো প্রমাণিত হয়েছে ইরানের এই দেশীয় প্রযুক্তির কাছে। ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং ফিলিস্তিনি ভাইদের পাশে দাঁড়াতে এই প্রতিরোধ জারি রাখবে। পশ্চিমা বিশ্বের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইরান যেভাবে বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছে, তা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের কাছে এক বড় প্রেরণার নাম।

news